টাইমলাইন, ১২০৪–১৯৪৭
৮৪টি যাচাই করা ঘটনা, বছর অনুযায়ী। যেখানে উৎসগুলোর মধ্যে বছর বা তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে, সেখানে “সূত্রভেদ আছে” লেখা — খুললে দেখবেন কোন উৎস কী বলে।
সূচনা
১২০৪–১৩৩৮১২০৪
যুদ্ধ ও অভিযান— নদীয়া (নবদ্বীপ)সূত্রভেদ আছে
বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়
১২০৪-এর শেষ বা ১২০৫-এর শুরু
অল্প কয়েকজন অশ্বারোহী নিয়ে বখতিয়ার খলজি সেন রাজা লক্ষ্মণসেনের নদীয়া দখল করেন; রাজা পূর্ববঙ্গে সরে যান। বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia: 'early 1205' (Bakhtiyar পাতা) ও '১২০৪-এর শেষ বা ১২০৫-এর শুরু' (Nadia পাতা); ইটন: ১২০৪; কিছু লেখক ১২০২/০৩ বলেন। সাইটে '১২০৪–০৫' লেখা নিরাপদ।
১২০৪–১২০৬
শাসক— লখনৌতি / দেবকোট
ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি
বাংলায় প্রথম মুসলিম শাসক; লখনৌতি ও দেবকোট ছিল তাঁর শাসনকেন্দ্র।
১২০৫
রাজধানী ও নগর— লখনৌতি (গৌড়)
লখনৌতি রাজধানী
নদীয়া বিজয়ের পর বখতিয়ার লখনৌতিকে (গৌড়) রাজধানী করেন এবং সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ গড়ে তোলেন।
১২০৬
যুদ্ধ ও অভিযান— দেবকোট
তিব্বত অভিযান ও বখতিয়ারের মৃত্যু
৬০২ হিজরি
তিব্বত অভিযানে বিপর্যয়ের পর দেবকোটে ফিরে বখতিয়ার অসুস্থ হন; মিনহাজের বর্ণনা অনুযায়ী আলী মর্দান খলজি তাঁকে হত্যা করেন।
১২১২–১২২৭
শাসক— লখনৌতিসূত্রভেদ আছে
গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ শাহ
দিল্লি থেকে স্বাধীনতা দাবি করে সরাসরি বাগদাদের খলিফার সমর্থক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন; বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের জন্য পরিচিত।
উৎস ও সূত্রভেদ
ইটন: স্বাধীনতা ঘোষণা ১২১৩; উইকিপিডিয়া: দ্বিতীয় দফা ১২১২–১২২৭।
১২২৭
রাজনৈতিক ঘটনা— লখনৌতি
ইলতুতমিশের বাংলা পুনর্দখল
দিল্লির সুলতান ইলতুতমিশের বাহিনী ইওয়াজ শাহকে পরাজিত করে; বাংলা আবার দিল্লির অধীন প্রদেশ হয়।
১২৮১
রাজনৈতিক ঘটনা— লখনৌতি
বলবনের হাতে বিদ্রোহী গভর্নর তুঘরলের দমন
দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বিদ্রোহী গভর্নরকে ধাওয়া করে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং পুত্র বুগরা খানকে বাংলার শাসক করেন।
১২৮৭–১২৯১
শাসক— লখনৌতি
নাসিরউদ্দিন বুগরা খান
পিতা বলবনের মৃত্যুর পরপরই স্বাধীনতা ঘোষণা করেন; বাংলায় বলবনী বংশের সূচনা।
১২৯১–১৩০০
শাসক— লখনৌতি
রুকনউদ্দিন কায়কাউস
মসজিদের শিলালিপিতে 'আল্লাহর ছায়া' ও 'খলিফার সাহায্যকারী'র মতো উচ্চ উপাধি গ্রহণ করেন; সাতগাঁও অঞ্চলে বিস্তার।
১২৯৮
স্থাপত্য— ত্রিবেণী (হুগলি)
ত্রিবেণীতে জাফর খান গাজীর মসজিদ
বাংলার সবচেয়ে পুরনো টিকে থাকা মসজিদগুলোর একটি; উত্তর ভারতীয় তুর্কি শৈলীর অনুকরণ।
উৎস ও সূত্রভেদ
ইটন: নির্মাণ বা সংস্কার ১২৯৮।
এই পর্বে এই ধরনের কোনো যাচাই করা ঘটনা এখনো নেই।
স্বাধীন সালতানাত
১৩৩৮–১৫৭৬১৩৩৮
রাজনৈতিক ঘটনা— সাতগাঁও
হাজী ইলিয়াস সাতগাঁওয়ের শাসক
ইজ্জউদ্দিন ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর হাজী ইলিয়াস সাতগাঁওয়ের কর্তৃত্ব নেন; বাংলা তিন শক্তির মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।
১৩৩৮–১৩৪৯
শাসক— সোনারগাঁও
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
বাহরাম খানের মৃত্যুর পর সোনারগাঁওয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন; শক্তিশালী নৌবাহিনী ছিল। স্বাধীন সালতানাতের সূচনা।
উৎস ও সূত্রভেদ
১৩৪৯ (৭৫০ হিজরি) সালে সোনারগাঁওয়ে মৃত্যু।
১৩৩৯–১৩৪২
শাসক— লখনৌতি
আলাউদ্দিন আলী শাহ
লখনৌতিতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে নিজ নামে মুদ্রা চালু করেন; ফখরুদ্দিনের সঙ্গে তিক্ত লড়াই চলে।
উৎস ও সূত্রভেদ
মুদ্রা ৭৪১–৭৪৩ হিজরি; ১৩৪২ সালে ইলিয়াসের কাছে পরাজিত।
১৩৪২
রাজধানী ও নগর— পান্ডুয়া
রাজধানী লখনৌতি থেকে পান্ডুয়ায়
দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের প্রতীক হিসেবে ইলিয়াস শাহ প্রায় বিশ মাইল উত্তরে পান্ডুয়ায় নতুন রাজধানী গড়েন।
১৩৪২–১৩৫৮
শাসক— পান্ডুয়াসূত্রভেদ আছে
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
লখনৌতি জয় করে সুলতান হন, রাজধানী পান্ডুয়ায় সরান; ১৩৫২ সালে সমগ্র বাংলা একীভূত করে দেশের নাম দেন 'বাঙ্গালাহ'।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia: ১৩৪২–১৩৫৮; ইটন: ১৩৪২–১৩৫৭।
১৩৪৪–১৩৫০
যুদ্ধ ও অভিযান— ত্রিহুত / কাঠমান্ডু
ত্রিহুত জয় ও নেপাল অভিযান
১৩৪৪-এ ত্রিহুত দখল; ১৩৫০-এ তরাই পেরিয়ে কাঠমান্ডু পর্যন্ত অভিযান, তবে নেপালের কোনো অংশ সংযুক্ত হয়নি।
উৎস
১৩৪৬
বিদেশি বিবরণ ও বাণিজ্য— চট্টগ্রাম / সোনারগাঁও / সিলেট
ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণ
৯ জুলাই ১৩৪৬ (চট্টগ্রামে প্রবেশ)
মরক্কোর পর্যটক চট্টগ্রাম দিয়ে বাংলায় আসেন; ফখরুদ্দিনের শাসন, সোনারগাঁওয়ের সমুদ্রবাণিজ্য ও সস্তা দ্রব্যমূল্যের বিবরণ রেখে যান।
১৩৪৯–১৩৫২
শাসক— সোনারগাঁও
ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ
ফখরুদ্দিনের উত্তরসূরি ও মুবারক শাহী বংশের শেষ সুলতান; ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহের কাছে সোনারগাঁও হারান।
১৩৫২
রাজনৈতিক ঘটনা— সোনারগাঁও / পান্ডুয়া
সমগ্র বাংলার একীকরণ — 'বাঙ্গালাহ'
সোনারগাঁও জয়ের মধ্য দিয়ে সাতগাঁও, লখনৌতি ও সোনারগাঁও এক রাষ্ট্রে মিলে যায়; মানুষ 'বাঙালি' নামে এক পরিচয় পায়।
উৎস ও সূত্রভেদ
সালতানাতের সূচনাবিন্দু হিসেবে ১৩৩৮ বনাম ১৩৫২ বিতর্কের কেন্দ্র এই ঘটনা।
১৩৫২–১৩৫৮
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
শাহ-ই-বাঙ্গালা উপাধি
সমকালীন ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফিফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালা', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালা' বলে উল্লেখ করেন।
১৩৫৩
যুদ্ধ ও অভিযান— পান্ডুয়া / একডালা
ফিরোজ শাহ তুঘলকের প্রথম বাংলা অভিযান
বিশাল বাহিনী নিয়ে দিল্লির সুলতান আক্রমণ করলেও বাংলা পুনর্দখলে ব্যর্থ হয়ে শান্তিচুক্তি করে ফিরে যান।
উৎস ও সূত্রভেদ
ইলিয়াস শাহ একডালা দুর্গে আশ্রয় নেন বলে প্রচলিত — এই অংশ যাচাই বাকি।
১৩৫৭
যুদ্ধ ও অভিযান— কামরূপ
কামরূপ অভিযান
শাসনের শেষ দিকে ইলিয়াস শাহ কামরূপের একটি অংশ জয় করেন।
উৎস
১৩৫৮–১৩৯০
শাসক— পান্ডুয়াসূত্রভেদ আছে
সিকান্দার শাহ
ইলিয়াস শাহের পুত্র; ফিরোজ তুঘলকের দ্বিতীয় অভিযান প্রতিহত করেন এবং আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
ইটন: ১৩৫৭–১৩৮৯; উইকিপিডিয়া: ১৩৫৮–১৩৯০।
১৩৫৯
যুদ্ধ ও অভিযান— পান্ডুয়া
ফিরোজ তুঘলকের দ্বিতীয় অভিযান ব্যর্থ
এরপর প্রায় দুই শতাব্দী উত্তর ভারতের কোনো বাহিনী বাংলায় আসেনি।
১৩৭৫
স্থাপত্য— পান্ডুয়া
আদিনা মসজিদ, পান্ডুয়া
সিকান্দার শাহের নির্মিত; উপমহাদেশে নির্মিত বৃহত্তম মসজিদ, পারস্যের সাসানীয় রাজকীয় শৈলীর প্রভাব স্পষ্ট।
১৩৯০–১৪১১
শাসক— পান্ডুয়াসূত্রভেদ আছে
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ন্যায়বিচার ও সাহিত্যানুরাগের জন্য খ্যাত; তাঁর আমলে চীনের মিং দরবারের সঙ্গে দূত বিনিময় শুরু হয়।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া: ১৩৯০–১৪১১; Banglapedia (সগীর পাতা): ১৩৮৯–১৪১০।
১৪০০
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ-জুলেখা'
আনু. ১৪০০
আজম শাহের সভাকবি সগীর বাংলা কাব্যে প্রথম ফারসি-আরবি শব্দ ব্যবহার করেন বলে ধরা হয়।
১৪০৫–১৪৩৩
বিদেশি বিবরণ ও বাণিজ্য— চট্টগ্রাম / সোনারগাঁও / গৌড়সূত্রভেদ আছে
চীনা দূত মা হুয়ান ও ফেই সিনের বাংলা ভ্রমণ
ঝেং হে-র নৌবহরের সঙ্গে আসা চীনা কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম, সোনারগাঁও ও গৌড়ের দরবার, বাণিজ্য ও সমাজের বিশদ বিবরণ লেখেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
নির্দিষ্ট সফরের বছর নিয়ে সূত্রভেদ: Banglapedia (সোনারগাঁও) মা হুয়ানের সফর ১৪০৬; উইকিপিডিয়া ১৪১৩ ও ১৪৩১-এর সফর বলে।
১৪১৪–১৪১৮
শাসক— পান্ডুয়াসূত্রভেদ আছে
রাজা গণেশ
ভাতুরিয়ার জমিদার; ইলিয়াস শাহী সুলতানদের দুর্বলতার সুযোগে প্রকৃত ক্ষমতা দখল করেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া দুই দফা দেখায় (১৪১৪–১৫, ১৪১৬–১৮); ইটন বংশের শাসন ১৪১৫–১৪৩৩। রাজা গণেশ = দনুজমর্দনদেব কিনা — মুদ্রাভিত্তিক বিতর্ক।
১৪১৫–১৪৩৩
শাসক— পান্ডুয়া → গৌড়সূত্রভেদ আছে
জালালুদ্দিন মুহম্মদ শাহ
রাজা গণেশের পুত্র যদু, ইসলাম গ্রহণ করে সুলতান হন; আরাকান, তিমুরি ও চীনা দরবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। তাঁর আমলে রাজধানী পান্ডুয়া থেকে গৌড়ে সরে যায় বলে ধরা হয়।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া: দুই দফা (১৪১৫–১৬, ১৪১৮–৩৩)।
১৪৩৫–১৪৫৯
শাসক— গৌড়সূত্রভেদ আছে
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ইলিয়াস শাহী বংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন; সমৃদ্ধ রাজ্য শাসন ও বহু মসজিদ-প্রাসাদ নির্মাণ।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া: ১৪৩৫; ইটনের মানচিত্র: পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ইলিয়াস শাহী ১৪৩৩–১৪৮৬।
১৪৮৭–১৪৯৪
শাসক— গৌড়সূত্রভেদ আছে
হাবশি সুলতানগণ (বারবক, সাইফুদ্দিন ফিরোজ, মাহমুদ শাহ দ্বিতীয়, মুজাফফর শাহ)
দরবারের আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কর্মকর্তারা পর পর ক্ষমতা দখল করেন; অস্থিরতার যুগ।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া: ১৪৮৭–১৪৯৪; ইটনের মানচিত্র: ১৪৮৬–১৪৯৩।
১৪৯৪–১৫১৯
শাসক— গৌড়সূত্রভেদ আছে
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
হাবশি সুলতান মুজাফফর শাহের উজির; অভিজাতদের সমর্থনে সুলতান হন। রাজ্যবিস্তার, শান্তি ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের যুগ।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia: ১৪৯৪–১৫১৯; উইকিপিডিয়া: ১৪৯৪–১৫১৮; ইটনের মানচিত্র বংশের শুরু ১৪৯৩।
১৪৯৪–১৫৩৮
যুদ্ধ ও অভিযান— চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ওপর হোসেন শাহী কর্তৃত্ব
বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের ত্রিমুখী লড়াইয়ে হোসেন শাহ চট্টগ্রাম দখল করেন; ১৫৩৮ পর্যন্ত তা রাজ্যের অংশ ছিল।
১৪৯৪–১৫৩৮
সাহিত্য ও সংস্কৃতি— গৌড় / চট্টগ্রাম / নবদ্বীপ
হোসেন শাহী আমলে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
হোসেন শাহ, নসরত শাহ ও সেনাপতি পরাগল খানের পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারতের বাংলা রূপ, বৈষ্ণব সাহিত্য ও চৈতন্য আন্দোলন বিকশিত হয়।
উৎস ও সূত্রভেদ
পৃষ্ঠপোষকতার মাত্রা নিয়ে বিতর্ক আছে (আর.সি. মজুমদার ভিন্নমত পোষণ করেন)।
১৪৯৮–১৫০২
যুদ্ধ ও অভিযান— কামতা / হাজোসূত্রভেদ আছে
কামতা-কামরূপ বিজয়
খেন বংশকে উৎখাত করে কামতা ও কামরূপ বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয়; মুদ্রায় 'কামরূপ, কামতা, জাজনগর ও উড়িষ্যার বিজয়ী' উপাধি।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia সাল দেয় না; উইকিপিডিয়া: ১৫০২ নাগাদ হাজো পর্যন্ত।
১৫১২–১৫১৫
বিদেশি বিবরণ ও বাণিজ্য— বাংলার বন্দরসমূহ / সাতগাঁও
তোমে পিরেসের 'সুমা ওরিয়েন্তাল'-এ বাংলা
পর্তুগিজ লেখক মালাক্কা থেকে বাংলার বন্দর, মুদ্রা, ওজন-মাপ ও সমুদ্রবাণিজ্যের বিবরণ লেখেন।
১৫১৭–১৫১৮
বিদেশি বিবরণ ও বাণিজ্য— চট্টগ্রাম / গৌড়সূত্রভেদ আছে
পর্তুগিজ দূতের আগমন
হোসেন শাহের শাসনের শেষ দিকে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য পর্তুগিজ দূত আসেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia শুধু 'শাসনের শেষ দিকে' বলে; নির্দিষ্ট বছর যাচাই করতে হবে।
১৫১৯–১৫৩৩
শাসক— গৌড়সূত্রভেদ আছে
নাসিরউদ্দিন নসরত শাহ
হোসেন শাহের পুত্র; মিথিলা জয় করেন, বাবরের মুঘল বাহিনীর মুখোমুখি হন এবং গৌড়ে বড় সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া: ১৫১৮–১৫৩৩ (হোসেন শাহের শেষ বছর নিয়ে সূত্রভেদের প্রতিফলন)।
১৫৩৮
যুদ্ধ ও অভিযান— গৌড়সূত্রভেদ আছে
শের শাহের গৌড় দখল
আফগান শের শাহ সুর গৌড় দখল করেন; অনেক ঐতিহাসিকের মতে এখানেই স্বাধীন সালতানাতের প্রথম পর্বের সমাপ্তি।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া: ১৫৩৮; Sarmaya-র বিবরণে গৌড় লুণ্ঠন ১৫৩৯। পারভীন হাসান ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সালতানাতের সমাপ্তি ১৫৩৮ ধরেন।
১৫৫৩–১৫৫৫
শাসক— গৌড়সূত্রভেদ আছে
শামসুদ্দিন মুহম্মদ শাহ গাজী (মুহম্মদ খান সুর)
ইসলাম শাহ সুরের মৃত্যুর পর স্বাধীনতা ঘোষণা করে বাংলায় সালতানাত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
উইকিপিডিয়া (ব্যক্তির পাতা): ১৫৫৩–১৫৫৫; শাসক-তালিকা: ১৫৫৪–১৫৫৫।
১৫৭৩–১৫৭৬
শাসক— তান্ডাসূত্রভেদ আছে
দাউদ খান কররানী
বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান; আকবরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia: ১৫৭৩–১৫৭৬; উইকিপিডিয়া: ১৫৭২–১৫৭৬।
১৫৭৫
যুদ্ধ ও অভিযান— তুকারোই (মেদিনীপুর)
তুকারোইয়ের যুদ্ধ
৩ মার্চ ১৫৭৫
সুবর্ণরেখার তীরে মুনিম খান ও টোডরমলের মুঘল বাহিনীর কাছে দাউদ পরাজিত হয়ে কটকে আশ্রয় নেন।
১৫৭৫
রাজনৈতিক ঘটনা— কটক
কটকের সন্ধি
দাউদ বাংলা ও বিহার মুঘলদের ছেড়ে দিয়ে শুধু উড়িষ্যা নিজের কাছে রাখেন।
১৫৭৫
যুদ্ধ ও অভিযান— তেলিয়াগড়ি
মুনিম খানের মৃত্যু ও দাউদের বাংলা পুনরুদ্ধার
অক্টোবর ১৫৭৫
মুঘল সেনাপতির মৃত্যুর সুযোগে দাউদ উড়িষ্যা থেকে এগিয়ে তেলিয়াগড়ি পর্যন্ত পশ্চিম ও উত্তর বাংলা পুনর্দখল করেন।
১৫৭৬
যুদ্ধ ও অভিযান— রাজমহল
রাজমহলের যুদ্ধ — স্বাধীন সালতানাতের অবসান
১২ জুলাই ১৫৭৬
খান জাহান হোসেন কুলী বেগের মুঘল বাহিনীর কাছে দাউদ পরাজিত ও নিহত হন; এই সাইটের সংজ্ঞায় স্বাধীন সালতানাতের শেষ।
এই পর্বে এই ধরনের কোনো যাচাই করা ঘটনা এখনো নেই।
বারো ভূঁইয়া, মুঘল ও নবাবি
১৫৭৬–১৭৫৭১৬১০
রাজধানী ও নগর— ঢাকা
ঢাকা বাংলার রাজধানী — জাহাঙ্গীরনগর
ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় সরিয়ে সম্রাটের নামে নাম দেন জাহাঙ্গীরনগর; প্রায় একশো বছর ঢাকা রাজধানী থাকে।
১৬১০
স্থাপত্য— নারায়ণগঞ্জ
হাজীগঞ্জ জলদুর্গ ও মুঘল নদী-দুর্গ
আনু. ১৬১০
বারো ভূঁইয়া ও মগ-পর্তুগিজ জলদস্যুদের মোকাবিলায় নদীতীরে দুর্গ গড়া হয়; হাজীগঞ্জ ইসলাম খানের সামরিক ঘাঁটি ছিল।
১৬১১
যুদ্ধ ও অভিযান— সোনারগাঁও
মুসা খানের পরাজয় ও সোনারগাঁওয়ের পতন
ইসলাম খানের বাহিনী ঈসা খাঁর পুত্র মুসা খানকে পরাজিত করে; বারো ভূঁইয়া প্রতিরোধ কার্যত শেষ হয়।
১৬৬০–১৬৬৩
শাসক— ঢাকা
মীর জুমলা
আওরঙ্গজেবের সেনাপতি; শাহ সুজাকে হটিয়ে ঢাকাকে আবার রাজধানী করেন, কুচবিহার ও আসাম অভিযান চালান।
১৬৭৮–১৬৮৪
স্থাপত্য— ঢাকাসূত্রভেদ আছে
লালবাগ কেল্লা (কিলা আওরঙ্গাবাদ)
শাহজাদা আজম নির্মাণ শুরু করেন, শায়েস্তা খান চালিয়ে যান; কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর (১৬৮৪) পর কাজ অসমাপ্ত থাকে।
উৎস ও সূত্রভেদ
শুরুর বছর ১৬৭৮ সাধারণভাবে প্রচলিত; ইউনেস্কো পাতায় শুধু ১৬৮৪ উল্লেখ।
১৭০২–১৭০৪
রাজধানী ও নগর— মুর্শিদাবাদ
মুর্শিদকুলী খান উপাধি ও মুর্শিদাবাদের পত্তন
২৩ ডিসেম্বর ১৭০২ (উপাধি)
দেওয়ান করতলব খান 'মুর্শিদকুলী খান' উপাধি পান; দেওয়ানি দপ্তর মকসুদাবাদে সরিয়ে ১৭০৪ সালে নাম দেন মুর্শিদাবাদ।
১৭১৭
রাজধানী ও নগর— মুর্শিদাবাদ / ঢাকাসূত্রভেদ আছে
রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে
ঢাকার রাজধানী-মর্যাদা শেষ হয়; সেখানে পূর্ববঙ্গের জন্য নায়েব নাজিমের দপ্তর থাকে।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia (ঢাকা): ১৭১৫–১৬ পর্যন্ত ঢাকায় সুবাদারের প্রতিনিধি; ইউনেস্কো: ঢাকা রাজধানী ১৬১০–১৭১৭।
১৭১৭–১৭২৭
শাসক— মুর্শিদাবাদসূত্রভেদ আছে
মুর্শিদকুলী খান — নবাবি শাসনের সূচনা
আনুষ্ঠানিকভাবে সুবাদার হন; রাজস্ব সংস্কার ও বাণিজ্যবৃদ্ধি। এখান থেকে সুবাদারি কার্যত বংশানুক্রমিক ও দিল্লির নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে যায়।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia (মুর্শিদকুলী): ১৭১৭; Banglapedia (নবাব): ১৭১৬ বা ১৭১৭।
১৭৫৬–১৭৫৭
শাসক— মুর্শিদাবাদ
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
এপ্রিল ১৭৫৬ – জুন ১৭৫৭
আলীবর্দীর দৌহিত্র ও বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব; কোম্পানির বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রথম জোরালো আপত্তি তোলেন।
১৭৫৭
রাজনৈতিক ঘটনা— কলকাতা
কলকাতা পুনর্দখল ও আলীনগরের সন্ধি
জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭
ইংরেজরা কলকাতা পুনরুদ্ধার করে যুদ্ধ ঘোষণা করে; নবাব আলীনগরের সন্ধিতে সই করতে বাধ্য হন।
১৭৫৭
রাজনৈতিক ঘটনা— কলকাতা
কোম্পানির সিলেক্ট কমিটির ষড়যন্ত্র-নীতি গ্রহণ
২৩ এপ্রিল ১৭৫৭
নবাবের অসন্তুষ্ট দরবারিদের নিয়ে অভ্যুত্থানকে কোম্পানি আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করে।
উৎস ও সূত্রভেদ
সুশীল চৌধুরীর গবেষণা: ইংরেজদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া 'পলাশী বিপ্লব' সম্ভবত হতো না।
১৭৫৭
যুদ্ধ ও অভিযান— পলাশী
পলাশীর যুদ্ধ
২৩ জুন ১৭৫৭
মীর জাফরসহ সেনাপতিদের বিশ্বাসঘাতকতায় ক্লাইভের কোম্পানি বাহিনীর কাছে নবাব পরাজিত হন; বাংলায় ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা।
এই পর্বে এই ধরনের কোনো যাচাই করা ঘটনা এখনো নেই।
ব্রিটিশ আমল
১৭৫৭–১৯৪৭১৭৬৪
যুদ্ধ ও অভিযান— বক্সার (বিহার)
বক্সারের যুদ্ধ
২২–২৩ অক্টোবর ১৭৬৪
মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব ও মুঘল সম্রাট শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনী হেক্টর মনরোর কোম্পানি বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়।
১৭৬৫
রাজনৈতিক ঘটনা— এলাহাবাদ
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ
১২ আগস্ট ১৭৬৫
এলাহাবাদের দরবারে শাহ আলমের ফরমানে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের অধিকার কোম্পানি পায়; দ্বৈত শাসনের শুরু।
১৭৭২
আইন ও বিচার— কলকাতা
হেস্টিংসের বিচার-পরিকল্পনা; দ্বৈত শাসনের অবসান
কোম্পানি সরাসরি প্রশাসন হাতে নেয়; দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপিত হয়, ফৌজদারি ক্ষেত্রে মুসলিম আইন তখনো বহাল থাকে।
১৭৯৩
আইন ও বিচার— বাংলা প্রেসিডেন্সি
কর্নওয়ালিস কোড — কাজির বিচারক্ষমতার অবসান
কাজির বিচারিক কাজ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে ইংরেজ সিভিলিয়ান বিচারক বসানো হয়; কাজি শুধু মুসলিম আইনের উপদেষ্টা থাকেন।
উৎস
১৭৯৩
অর্থনীতি ও সমাজ— বাংলা, বিহার, উড়িষ্যাসূত্রভেদ আছে
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
২২ মার্চ ১৭৯৩
জমিদারদের দেয় রাজস্ব চিরকালের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়; পুরনো মুসলিম অভিজাত ও কৃষকশ্রেণির অবস্থার গভীর পরিবর্তন ঘটে।
উৎস ও সূত্রভেদ
বছর সব উৎসে এক; নির্দিষ্ট তারিখ (২২ মার্চ) শুধু শিক্ষামূলক সাইটে পাওয়া গেছে।
১৮১৮–১৯০৬
আন্দোলন ও সংগঠন— ফরিদপুর / ঢাকা / বরিশাল / কুমিল্লা
ফরায়েজি আন্দোলন
হাজী শরীয়তুল্লাহর (১৭৮১–১৮৪০) নেতৃত্বে ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু, পরে জমিদার ও নীলকরবিরোধী কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
১৮২০–১৮২১
আন্দোলন ও সংগঠন— কলকাতা
সৈয়দ আহমদ বেরেলভির কলকাতা সফর — তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়া
১৮২০ সালের সফরে প্রায় দশ হাজার অনুসারী জড়ো হন; এই সময়ে তিতুমীর তাঁর শিষ্য হন।
১৮৩১
যুদ্ধ ও অভিযান— নারকেলবাড়িয়া (চব্বিশ পরগনা)
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার পতন
১৯ নভেম্বর ১৮৩১
নারকেলবাড়িয়ায় অক্টোবর ১৮৩১-এ নির্মিত কেল্লায় ১৪ নভেম্বর ইংরেজ আক্রমণ শুরু হয়; ১৯ নভেম্বর অনুসারীসহ তিতুমীর শহীদ হন।
উৎস
১৮৩৭
আইন ও বিচার— বাংলা প্রেসিডেন্সি
আদালতের ভাষা হিসেবে ফারসির বিলুপ্তি
ব্যয় সংকোচ ও সাধারণের বোধগম্যতার যুক্তিতে বাংলা প্রেসিডেন্সিতে ফারসির জায়গায় স্থানীয় ভাষা ও ইংরেজি চালু হয়।
১৮৪০–১৮৬২
আন্দোলন ও সংগঠন— ফরিদপুর
দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন
শরীয়তুল্লাহর পুত্র দুদু মিয়া (১৮১৯–১৮৬২) আন্দোলনকে আরও সংগঠিত ও কৃষিভিত্তিক রূপ দেন।
১৮৬৩–১৮৭০
আইন ও বিচার— পাটনা / মালদা / কলকাতা
ওয়াহাবি মামলাসমূহ
তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়ার অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একাধিক মামলা; সরকারি নথি পরে সংকলিত হয়।
১৮৬৪
আইন ও বিচার— ব্রিটিশ ভারত
আদালত থেকে দেশীয় আইন-কর্মকর্তা অপসারণ
মৌলভি ও কাজিদের আদালতের আনুষ্ঠানিক আইন-উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়; ইসলামি আইন অ্যাংলো-মুহাম্মাদান রূপে সংকলিত হতে থাকে।
১৮৭১
সাহিত্য ও সংস্কৃতি— সিমলা / লন্ডন
হান্টারের 'দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমানস'
জুন–আগস্ট ১৮৭১
ভাইসরয় মেয়োর প্রশ্নের জবাবে লেখা বই; বাংলার মুসলমানদের 'অবনতি'র ঔপনিবেশিক ব্যাখ্যা যা পরবর্তী বিতর্কের কেন্দ্র হয়।
১৮৭৫
আইন ও বিচার— ব্রিটিশ ভারত
পারিবারিক আইন ছাড়া সব ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক কোড
আনু. ১৮৭৫
১৮৭৫ নাগাদ বিবাহ, উত্তরাধিকারের মতো পারিবারিক বিষয় আর কিছু সম্পত্তি-বিষয় ছাড়া মুসলিম আইনের স্থান নেয় ঔপনিবেশিক আইনবিধি।
১৯০৫–১৯১১
রাজনৈতিক ঘটনা— ঢাকা / কলকাতা
বঙ্গভঙ্গ — পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ
১৬ অক্টোবর ১৯০৫ কার্যকর
১৯ জুলাই ১৯০৫-এর সিদ্ধান্তে ঢাকাকে রাজধানী করে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়; পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতারা একে সুযোগ হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়।
উৎস ও সূত্রভেদ
ঘোষণার তারিখ নিয়ে উৎসভেদ: ১৯ বা ২০ জুলাই ১৯০৫।
১৯০৬
রাজনৈতিক ঘটনা— সিমলা
সিমলা প্রতিনিধিদল
১ অক্টোবর ১৯০৬
মুসলিম নেতাদের প্রতিনিধিদল ভাইসরয় মিন্টোর সঙ্গে দেখা করে পৃথক প্রতিনিধিত্বের দাবি জানায়।
১৯০৬
আন্দোলন ও সংগঠন— শাহবাগ, ঢাকা
ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা
৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬
শাহবাগে নওয়াব সলিমুল্লাহর আয়োজিত শিক্ষা সম্মেলনের শেষ দিনে মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
১৯১৯–১৯২৪
আন্দোলন ও সংগঠন— সমগ্র ভারত / বাংলাসূত্রভেদ আছে
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন
উসমানীয় খিলাফত রক্ষার দাবিতে আন্দোলন; ফজলুল হক ১৯১৯ সালে এতে যোগ দেন। হিন্দু-মুসলিম সহযোগিতার বিরল পর্ব।
উৎস ও সূত্রভেদ
ফজলুল হকের যোগদান Banglapedia-য় নিশ্চিত; আন্দোলনের শেষ বছর যাচাই বাকি।
১৯৩৭
রাজনৈতিক ঘটনা— কলকাতা
ফজলুল হকের কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা
১ এপ্রিল ১৯৩৭
কৃষক প্রজা পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরোধিতা করলেও শেষে লীগের সঙ্গে মিলে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন।
উৎস ও সূত্রভেদ
১৯৩৭-এর নির্বাচনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ ৪০টি আসন পায় (উইকিপিডিয়া)।
১৯৪০
রাজনৈতিক ঘটনা— লাহোর
লাহোর প্রস্তাব
২৩ মার্চ ১৯৪০ (উত্থাপন)
জিন্নাহর বাছাইয়ে ফজলুল হক প্রস্তাব উত্থাপন করেন; মুসলিম-প্রধান অঞ্চলে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ'-এর দাবি, যদিও প্রস্তাবে 'পাকিস্তান' শব্দটি ছিল না।
উৎস ও সূত্রভেদ
গৃহীত ২৪ মার্চ (দুর্বল উৎস)। 'রাষ্ট্রসমূহ' বহুবচনের অর্থ নিয়ে বিতর্ক।
১৯৪১
আন্দোলন ও সংগঠন— মাদ্রাজ
লাহোর প্রস্তাব মুসলিম লীগের গঠনতন্ত্রে
১৫ এপ্রিল ১৯৪১
মাদ্রাজ অধিবেশনে প্রস্তাবটি লীগের মূল লক্ষ্য হিসেবে গঠনতন্ত্রে যুক্ত হয়।
১৯৪৬
রাজনৈতিক ঘটনা— দিল্লিসূত্রভেদ আছে
দিল্লি কনভেনশনে প্রস্তাবের সংশোধন
এপ্রিল ১৯৪৬
লীগ আইনপ্রণেতাদের সম্মেলনে 'রাষ্ট্রসমূহ'-এর জায়গায় একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রস্তাব গৃহীত হয়; আবুল হাশিম এর বিরোধিতা করেন।
উৎস ও সূত্রভেদ
Banglapedia কনভেনশন ও আপত্তির কথা বলে; তারিখ (৭–৯ এপ্রিল) দুর্বল উৎসে।
১৯৪৭
রাজনৈতিক ঘটনা— দিল্লি / কলকাতাসূত্রভেদ আছে
অখণ্ড স্বাধীন বাংলার প্রস্তাব
২৭ এপ্রিল ১৯৪৭
সোহরাওয়ার্দী দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে ভারত ও পাকিস্তান থেকে আলাদা স্বাধীন অখণ্ড বাংলার প্রস্তাব দেন; শরৎ বসু ও আবুল হাশিম যুক্ত হন, কিন্তু উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
উৎস ও সূত্রভেদ
উদ্যোগের ব্যর্থতা Banglapedia-য় নিশ্চিত; তারিখ দুর্বল উৎস থেকে।
১৯৪৭
রাজনৈতিক ঘটনা— দিল্লি
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (৩ জুন পরিকল্পনা)
৩ জুন ১৯৪৭
২ জুনের নেতৃসম্মেলনে গৃহীত দেশভাগ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ৩ জুন প্রকাশিত হয়।
১৯৪৭
রাজনৈতিক ঘটনা— কলকাতা
বঙ্গীয় আইনসভায় বাংলা ভাগের ভোট
২০ জুন ১৯৪৭
নিয়ম অনুযায়ী আইনসভার যেকোনো এক অংশের ভাগের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই প্রদেশ বিভক্ত হয়; পশ্চিমবঙ্গের সদস্যরা ভাগের পক্ষে ভোট দেন।
১৯৪৭
রাজনৈতিক ঘটনা— ঢাকা / করাচি
পাকিস্তানের জন্ম — পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ
১৪ আগস্ট ১৯৪৭
ব্রিটিশ শাসনের অবসানে মুসলিম-প্রধান পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের পূর্বাংশ হয়, ঢাকা হয় প্রাদেশিক রাজধানী। এখানেই সাইটের সমাপ্তি।
এই পর্বে এই ধরনের কোনো যাচাই করা ঘটনা এখনো নেই।